পত্র ও দরখাস্ত লিখন
তােমার এলাকার বন্যার্তদের সাহায্যের আবেদন জাল পিত্রকার সম্পাদকের নিকট একখানা পত্র লেখ।
বরাবর
সম্পাদক,
দৈনিক ইত্তেফাক, ঢাকা।
জনাব,
আপনার বহুল প্রচারিত স্বনামধন্য ‘দৈনিক ইত্তেফাক’ পত্রিকায় নিম্নলিখিত সংবাদ প্রকাশ করে যথাযথ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণে সহায়তা করলে কৃতার্থ হব।
বিনীত
ক
তাং-০৬/০৭/২০২১
ইং।
৷৷ বন্যার্তদের জন্য সাহায্য চাই ॥
অতীতের মত এবারও কুমিল্লা জেলার অন্তর্গত মুরাদনগর থানা সর্বনাশা বন্যার করাল গ্রাস থেকে রক্ষা পায়নি। এবারের বন্যা স্মরণকালের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যা। গােমতি নদীর বাঁধ ভেঙ্গে এবং অনবরত বৃষ্টির ফলে সম্পূর্ণ থানা আজ বন্যাকবলিত। গােমতী নদীর পানি এখনও বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বন্যা কবলিত গ্রামগুলাের অধিকাংশ এলাকা পানিতে ডুবে যায়। গত দেড় মাস যাবৎ বন্যার পানিতে ডুবে যায় শতশত ঘর-বাড়ি। রাস্তা-ঘাট, কল-কলেজ সবই একাকার হয়ে যায় বন্যার পানিতে। প্রচণ্ড পানির তােড়ে ভেসে যায় অনেক কঁাচা বসতবাড়ি এবং সেই সাথে শিশুসহ অনেক মানুষ ও গৃহপালিত পশুপাখি। এলাকার অধিকাংশ দরিদ্র পরিবার পানি বন্দি হয়ে দুঃসহ জীবনযাপন করে। বন্যার্তদের অনেকেই ঘরের চাল ও উঁচু রাস্তাসহ বিভিন্ন আশ্রয় শিবির ও ত্রাণকেন্দ্রে আশ্রয় নেয়। বন্যার পানিতে ভেসে যায় অসহায় কৃষকদের গরু-বাছুর এবং তাদের সদ্য তােলা ফসল। জমির ফসলও সম্পূর্ণ তলিয়ে যায়। এলাকার প্রায় ৪০০ বছর কারখানা পানিতে ডুবে যায়। ফলে প্রায় ৩০ হাজার শ্রমিক কর্মহীন হয়ে চরম দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটায়। বিশুদ্ধ খাবার পানির অভাবে দেখা দিয়েছে কলেরা, টাইফঙে, আমাশয় ইত্যাদি রােগ। থানা প্রশাসন ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলাে খাদ্য-বত্তের যতটক যােগান দেয় তা প্রয়ােজনের তুলনায় খুবই অপ্রতুল। অবিলম্বে খাদ্য, পানীয় জল এবং চিকিৎসার সুব্যবস্থা না করলে দুর্গতদেরকে বাঁচানাে সম্ভব হবে না।
তাই, এ ব্যাপারে অবিলম্বে প্রয়ােজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের আশু দৃষ্টি কামনা করছি।
বিনীত
ক
0 Comments